লিচুর মৌসুম ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের বাজারগুলো। জেলার কালিতলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী লিচু বাজারে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকাররা ট্রাকভর্তি লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ ও ব্যবসায়ীদের ধারণা, অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো উৎপাদনের কারণে চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে লিচু বিক্রি থেকে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।
দিনাজপুর দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদ্রাজি, বোম্বাই, চায়না থ্রি, চায়না টু, বেদানা, কাঁঠালি ও মোজাফফরি জাতের লিচুর আবাদ হয়েছে। সম্প্রতি দিনাজপুরের বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় এর চাহিদা আরও বেড়েছে।
সদর উপজেলার মাসিমপুর, আউলিয়াপুর ও বিরল উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকেটজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকরা। কয়েক দফা ঝড় ও বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও সামগ্রিক উৎপাদন সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার কসবা এলাকার লিচুচাষি সবুজ হোসেন বলেন, আবহাওয়ার কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও বিক্রি সন্তোষজনক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বোম্বাই জাতের লিচু।
কালিতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কয়েকটি জাতের লিচুর দাম কিছুটা কমলেও বিক্রি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০০টি বেদানা লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চায়না থ্রি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাদ্রাজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং বোম্বাই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লিচু ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, দিনাজপুরের লিচুর সুনাম সারা দেশে রয়েছে। দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
ঢাকা থেকে দিনাজপুরে আসা ক্রেতা রুস্তম আলী কুরায়েশী বলেন, দিনাজপুরের লিচুর স্বাদ ও মান অন্য এলাকার তুলনায় আলাদা। তাই সুযোগ পেলেই এখান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে শুধু লিচু বিক্রি থেকেই প্রায় হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে। পাশাপাশি পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট খাতেও উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবাহ সৃষ্টি হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।