হিন্দুস্তান টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২০ মে) দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানিতে ভারতের আদালত স্পাই থ্রিলার সিনেমাগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজাস কারিয়া–এর বেঞ্চ মন্তব্য করেন, আবেদনকারীর উদ্বেগকে অমূলক বলা যায় না। আদালত জানায়, সিনেমা মূলত বিনোদনের জন্য নির্মিত হলেও এর সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাব অস্বীকার করা সম্ভব নয়।
আদালত মৌখিকভাবে আরও বলে, সেন্সর বোর্ডের জন্য নির্দিষ্ট ও কার্যকর গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন। পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন–কে পুরো রিট আবেদনটি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বিবেচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটি করেছেন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এসএসবির এক সদস্য। তার অভিযোগ, সিনেমাটিতে দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রম, সামরিক কৌশল, সংবেদনশীল স্থান এবং আন্ডারকভার এজেন্টদের পরিচয় অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
আবেদনকারীর দাবি, সিনেমার কিছু চরিত্র ও ঘটনা বাস্তব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও শহীদ সেনাসদস্যদের আদলে নির্মিত। পাশাপাশি কিছু সফল সামরিক অভিযানের ইঙ্গিতও ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পিটিশনে আরও বলা হয়, সিনেমার কয়েকটি দৃশ্যে ক্লাসিফায়েড প্রটোকল ও ডিপ কভার আইডেন্টিটি দেখানো হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে কর্মরত গোপন এজেন্টদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই ঘটনায় ভবিষ্যতে স্পাই সিনেমার জন্য আলাদা প্রটোকল তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির সেন্সর সার্টিফিকেট বাতিল এবং সিনেমা হল ও ওটিটিতে প্রদর্শন স্থগিতের আবেদনও করা হয়েছে।
আদিত্য ধর পরিচালিত স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ধুরন্ধর–এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। সিনেমায় তাকে ভারতীয় গুপ্তচর হামজা আলি মাজারি ওরফে জসকিরাত সিং রাঙ্গির ভূমিকায় দেখা গেছে। অন্যদিকে গ্যাং লিডার রহমান ডাকাত চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না।
‘ধুরন্ধর’ সিরিজের প্রথম কিস্তি গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় এবং দ্বিতীয় পর্ব ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ ২০২৬ সালের মার্চে মুক্তি পায়। দুটি সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।