দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কপথগুলোর একটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নিরাপত্তা নজরদারিতে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। অপরাধ দমন ও যান চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা বিপুলসংখ্যক সিসি ক্যামেরার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম হয়ে ফেনী সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে মোট ৫৭২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ৩৭৯টি। বাকি ১৯৫টি ক্যামেরা বিকল অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত পূর্ণাঙ্গ নজরদারির বাইরে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ায় ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমূলক অপরাধের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পর মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দাউদকান্দি টোল প্লাজা, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, আলেখারচর মোড়, কোটবাড়ি এলাকা, চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি স্থানের ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। এসব এলাকায় কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
হাইওয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের অস্থির পরিস্থিতির সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সে সময় বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে অর্থ ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে সব ক্যামেরা দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
মহাসড়ক ব্যবহারকারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত সব ক্যামেরা সচল করা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকর থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হয়।
চান্দিনা এলাকার ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেন বলেন, ক্যামেরা সচল না থাকায় অনেক অপরাধী সহজেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা দরকার।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, মহাসড়কে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, অচল ক্যামেরাগুলো পর্যায়ক্রমে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো নজরদারি ব্যবস্থাকে আবারও কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি শতভাগ সচল রাখা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা তদন্তে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।