ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত সংক্রমণের ৩ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এডিস মশা সাধারণত ভোর ও সন্ধ্যার আগে বেশি সক্রিয় থাকে।
ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি ভাব, খাওয়ায় অরুচি, ডায়রিয়া, শরীর ও গিরায় ব্যথা, ত্বকে র্যাশ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং নাক ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়া। অনেক ক্ষেত্রে প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকার পরিমাণও কমে যায়।
তীব্র ব্যথার কারণে রোগীদের শরীর ভেঙে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়, যা অনেক সময় “ব্রেক বোন ফিভার” নামে পরিচিত। গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা অনেক সময় বাড়িতে সম্ভব হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন। প্লাটিলেট দ্রুত কমে গেলে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং রক্তচাপ কমে শকেও যেতে পারে।
সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভালো হয়ে যায়, তবে সুস্থ হওয়ার পরও অনেক রোগীর শরীরে বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দেয়।
ডেঙ্গু পরবর্তী জটিলতা
ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর অনেকের শরীরে দুর্বলতা ও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো চুল পড়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়া, মাংসপেশী ও গিরায় ব্যথা, মাথাব্যথা এবং চোখে ব্যথা বা ঝাপসা দেখা।
এছাড়া ক্ষুধামন্দার কারণে দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসে পানি জমা, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথার মতো জটিলতাও দেখা দেয়।
ডেঙ্গু পরবর্তী সময়ে পেটে পানি জমা, পিত্তথলির দেয়াল মোটা হয়ে যাওয়া, অনিদ্রা, মানসিক অবসাদ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গুরুতর ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়ে প্যারালাইসিস বা স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
দ্রুত সুস্থতার জন্য করণীয়
ডেঙ্গু পরবর্তী দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খেতে হবে।
তরল খাবার, স্যুপ, ফল ও ফলের জুস শরীর পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।
এ সময় ভাজা-পোড়া, জাঙ্ক ফুড ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মাল্টিভিটামিন, ক্যালসিয়াম, জিংক ও ভিটামিন ডি গ্রহণ করা যেতে পারে।
শরীরের ব্যথা ও দুর্বলতা কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি নেওয়া যেতে পারে।
অনিদ্রা বা মানসিক চাপ কমাতে রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ উপকারী। শ্বাসপ্রশ্বাস ও বুকের পুনর্বাসন ব্যায়ামও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পুষ্টি, বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অনুসরণ করলে ডেঙ্গু পরবর্তী জটিলতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।