বিশ্ববাজারে হীরার চাহিদা কমে যাওয়া এবং দাম পতনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় হীরার খনি ‘ভেনেটিয়া’-তে আগামী দুই বছরের জন্য উৎপাদন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে খনি কোম্পানি ডি বিয়ার্স। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ও ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম হীরার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মুখে প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ভেনেটিয়া খনি দেশটির মোট হীরা উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে। খনিটিতে প্রায় ৪ হাজার কর্মী কাজ করেন। ডি বিয়ার্স জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতির কারণে ব্যয় কমানো এবং কার্যক্রম পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই সময়ের মধ্যে খনির অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ চলবে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে ফিরলে আরও দক্ষ ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করা হবে।
বিশ্বজুড়ে হীরার বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে গত কয়েক বছরে। ১৯৪৭ সালে ‘এ ডায়মন্ড ইজ ফরএভার’ স্লোগানের মাধ্যমে বিয়ের আংটির সঙ্গে হীরার আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ডি বিয়ার্স। কিন্তু বর্তমানে ভোক্তাদের পছন্দে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে অপরিশোধিত হীরার মূল্য সূচক প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব ও খনি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক ক্রেতা এখন প্রাকৃতিক হীরার পরিবর্তে ল্যাব-উৎপাদিত তুলনামূলক সাশ্রয়ী হীরার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ডি বিয়ার্সের ব্যবসাতেও। প্রতিষ্ঠানটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা রয়েছে খনি ও ধাতু খাতের বহুজাতিক কোম্পানি অ্যাংলো আমেরিকানের কাছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অ্যাংলো আমেরিকান এখন তামা খাতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ডি বিয়ার্স বিক্রির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে।
১৮৭১ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী সেসিল রোডসের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ডি বিয়ার্স। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, সম্পদ এবং রোডসের বর্ণবাদী উত্তরাধিকারের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ডি বিয়ার্সের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ইতিহাস নয়; বরং দ্রুত বদলে যাওয়া বৈশ্বিক বাজার, কমে যাওয়া চাহিদা এবং কৃত্রিম হীরার উত্থান।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।