কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব-১১। সংস্থাটি জানিয়েছে, ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারান তিনি।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফিরছিলেন।
ঘটনার দিন রাতে গাড়ি থেকে নেমে বাসায় ফেরার পথে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে একটি সিএনজিতে ওঠেন বুলেট বৈরাগী। তবে তিনি বুঝতে পারেননি, সিএনজিতে যাত্রী সেজে ছিল সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল। চলন্ত সিএনজির ভেতরে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পরে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং মো. সুজন।
তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাগ, পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা রাতে যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত।
র্যাব-১১ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, অভিযুক্তরা পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।