চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর আবাসিক হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আট শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য সাময়িক একাডেমিক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিন কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন-
- হোসাইন শাহীদ আবির (মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং)
- মো. আবু সায়েম (ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)
- প্রিয়ম বিশ্বাস (ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)
- তানভীর ফয়সাল আহমেদ শিমুল (ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)
- দেবজ্যোতি দে (ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)
- রাকিবুল করিম (ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং)
- মো. আদনান শাহরিয়ার (যন্ত্রকৌশল)
- নাফিজ ইমতিয়াজ ফাহিম (যন্ত্রকৌশল)
যেভাবে ধরা পড়েন
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৯ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে শহীদ আবু সাঈদ হলের ৫২৯ নম্বর কক্ষে সহকারী প্রভোস্টদের অভিযানে ওই শিক্ষার্থীদের গাঁজা সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় কক্ষ তল্লাশি করে গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।
দুই বছরের একাডেমিক বহিষ্কার
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রভোস্টদের লিখিত অভিযোগ, হল প্রভোস্টের সুপারিশ, জব্দকৃত আলামত এবং স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিন কমিটির ৩০৬তম সভার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘মাদক প্রতিরোধ নীতিমালা, চুয়েট-২০১৬’-এর বিধি ১১(খ) অনুযায়ী ন্যূনতম শাস্তি হিসেবে তাদের ১২ জুলাই ২০২৬ থেকে ১১ জুলাই ২০২৮ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য সাময়িক একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরও কঠোর শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কেন আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ২৬ জুলাই সকাল ১১টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে হবে।
এছাড়া, তারা চাইলে ২৭ জুলাই সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় উপস্থিত হয়ে নিজেদের পক্ষে শুনানির সুযোগ নিতে পারবেন। এ জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৃথক আবেদন জমা দিতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।