টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। জেলার ১০ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। এছাড়া কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানিতে শত শত বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে বন্যা, পাহাড়ধস এবং পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৩ জন রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রাসুলাবাদ এলাকায় নৌকায় করে বন্যার পানি পার হওয়ার সময় তিন বোন পানিতে পড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের অভিযানে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত অপর দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারিভাবে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।