কুমিল্লায় চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে ভ্যাট কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী।
র্যাব জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন।
অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, তারা সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্য। তারা দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনার রাতে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর ভ্যাট কর্মকর্তাকে টার্গেট করে চক্রটি। পরে তাকে সিএনজিতে তুলে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।