দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব কাটতে না কাটতেই এবার তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা। সিএনজি ও এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না।
এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। কেউ কেউ বলছেন, আগের তেলের সংকট সামাল দিয়ে এখন গ্যাস সংকট তাদের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রাজধানীর পরিবাগ, মহাখালী, তেজগাঁও ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক পাম্পে চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে গাড়িতে গ্যাস সরবরাহে।
চালকদের অভিযোগ, আগে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে গ্যাস নেওয়া গেলেও এখন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় পুরো ট্যাংকও পূরণ করা যাচ্ছে না।
এক সিএনজি চালক জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হওয়ায় আয় কমে গেছে, ফলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রাইভেট কার চালকরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একাধিক স্টেশন ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে চাপ কম থাকায় তারা বাধ্য হচ্ছেন সীমিতভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে। সাধারণত যেখানে ১৫ থেকে ২০ পিএসআই চাপ থাকার কথা, সেখানে অনেক এলাকায় তা ৫ থেকে ৬ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে।
তারা জানান, কম চাপের কারণে কম্প্রেসর ঠিকভাবে কাজ করছে না, ফলে প্রতিটি গাড়িতে গ্যাস দিতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।