ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের সফরে চীনে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক বিশ্বনেতাকে দ্রুত সময়ের ব্যবধানে স্বাগত জানানো চীনের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
পশ্চিমা বিশ্বের চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে চীন। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুতিনের এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ঠিক এর মধ্যেই ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকেও বড় কোনো অগ্রগতি না আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীন ও রাশিয়া এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ২০০১ সালের ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই নেতার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি বৈঠক হয়েছে, যা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পশ্চিমা নেতাদের তুলনায় অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সময়ের ব্যবধানে ট্রাম্প ও পুতিনকে আলাদাভাবে আতিথেয়তা দিয়ে চীন বিশ্ব কূটনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরছে। এটি ওয়াশিংটনের জন্যও একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা।
অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, ফলে চীনের ওপর মস্কোর নির্ভরশীলতাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সফরের আগে এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন “নজিরবিহীন উচ্চতায়” পৌঁছেছে। তিনি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রুবল ও ইউয়ানে লেনদেন বৃদ্ধি এবং ভিসামুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।