চীন ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার রাতে চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফর শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে দেশে ফেরেন। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা।
মাহদী আমিন বলেন, বিদেশ সফরে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে যেভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা দেশের জন্য সম্মানের বিষয়। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং এবারের সফরেও সেই চিত্র দেখা গেছে।
তিনি জানান, সফরের প্রথম পর্বে মালয়েশিয়ায় দেশটির রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এরপর বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর নানা বিষয় গুরুত্ব পায় বলে জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুই দেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে চীন ও মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। তাদের অবদানের প্রশংসা করেছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।
উপদেষ্টা বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি না থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কোনো দলীয় সমাবেশ বা শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়নি। এটিকে তিনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি দুই নেতার মধ্যে একান্ত আলোচনাও হয়েছে। সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে তিনি বলেন, দেশটির নিজস্ব নীতিগত প্রক্রিয়া শেষ হলে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
চীনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।