চীনের কাছ থেকে ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি রোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধি দলও এ বিষয়ে ঢাকায় বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সফর চলাকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক, চুক্তি এবং যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বড় প্রকল্প আলোচনায় রয়েছে। তিস্তা নদীসংক্রান্ত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন এবং শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপনে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় শিল্প বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ একদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় হবে। সফর শেষে এসব আলোচনার ফলাফল আরও স্পষ্ট হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।