আসন্ন FIFA World Cup–এর সম্প্রচার স্বত্ব কেনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা Bangladesh Television (বিটিভি)। একই সঙ্গে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের স্বত্ব কেনার পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রোববার (২৯ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী Zahir Uddin Swapan জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিটিভি এবার সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব কিনছে না। তবে দর্শকদের খেলা দেখার সুযোগ রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব বাণিজ্যে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ
দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় এমন অভিযোগ বহুদিনের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে স্বত্ব কেনার পর তা কয়েক গুণ বেশি দামে বিটিভির কাছে বিক্রি করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২২ বিশ্বকাপ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
কাতার বিশ্বকাপের সময় এই স্বত্ব আনার ক্ষেত্রে Toma Group–এর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কীভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার ব্যবসায় যুক্ত হলো এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামে স্বত্ব পাওয়া সম্ভব ছিল, তার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করে বিটিভি সেটি কিনেছিল। যদিও এ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তের সিদ্ধান্ত
তথ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের স্বত্ব কেনার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে যাচাই করা হবে
- আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকৃত মূল্য কত ছিল
- বিটিভি কত টাকা ব্যয় করেছে
- কোন প্রক্রিয়ায় স্বত্ব দেশে এসেছে
- কারা এ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল
বড় বিজ্ঞাপন বাজারই মূল কারণ
বিশ্বকাপকে ঘিরে বিপুল বিজ্ঞাপন আয়ের সম্ভাবনাই এই স্বত্ব বাণিজ্যকে লাভজনক করে তুলেছে। একটি জনপ্রিয় ম্যাচের বিজ্ঞাপনের দর কয়েক গুণ বেড়ে যায়, ফলে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেও বড় অঙ্কের লাভের সুযোগ থাকে।
সামনে কী?
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ নীতিমালা না থাকায়ই এই খাতে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। বিটিভি যদি সরাসরি আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থার কাছ থেকে স্বত্ব কিনতে পারে, তাহলে খরচ কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কমে যাবে।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ শুধু খেলা নয়, এটি এক ধরনের জাতীয় আবেগ। সেই আবেগকে ঘিরে যদি অস্বচ্ছ বাণিজ্য গড়ে ওঠে, তাহলে তা পুরো ব্যবস্থার জন্যই প্রশ্ন তৈরি করে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে এই বিতর্কের অবসান ঘটে কিনা।
এখনো কোনো মতামত নেই।