দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শীর্ষ পর্যায়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পদত্যাগকারী কমিশনাররা হলেন মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মধ্যে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিএসইসির ভবিষ্যৎ কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই বছরের জুনে মু. মহসীন চৌধুরী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। পরে পর্যায়ক্রমে মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসির কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে।
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর থেকেই বিএসইসিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের একযোগে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই জল্পনা বাস্তবে রূপ নিল।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। একই সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও কমিশনের পুনর্গঠন এবং বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করেন।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদত্যাগের পর কমিশনের নতুন নেতৃত্ব এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।