হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে ব্রাজিল। স্কোরলাইন দেখলে মনে হতে পারে কার্লো আনচেলত্তির দল সহজেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে ম্যাচের ভেতরের গল্প বলছে ভিন্ন কিছু।
জয় এলেও ব্রাজিলের খেলায় এমন কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে, যা সামনের ম্যাচগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে গোল ব্যবধান, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
গোল ব্যবধান নিয়ে আক্ষেপ
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা হাইতির বিপক্ষে আরও বড় ব্যবধানে জয়ের সুযোগ ছিল ব্রাজিলের সামনে। প্রথমার্ধে তিন গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে যেন গতি কমিয়ে দেয় সেলেসাওরা।
ম্যাচের শেষভাগে গোল বাড়ানোর বদলে শক্তি সঞ্চয় এবং বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল দলটি। তবে গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সে হিসেবে আরও কয়েকটি গোল করতে না পারাটা ভবিষ্যতে আফসোসের কারণ হতে পারে।
আক্রমণে ধার থাকলেও নেই খাঁটি স্ট্রাইকার
ম্যাথেউস কুনিয়া এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সমন্বয় ছিল ম্যাচের অন্যতম ইতিবাচক দিক। কুনিয়া করেছেন জোড়া গোল, আর ভিনিসিয়ুসও গোলের খাতা খুলেছেন।
তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে ব্রাজিল। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের একটি মিস করা সুযোগ ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন স্বাভাবিক নাম্বার নাইন না থাকায় আক্রমণে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দলটিকে।
মাঝমাঠে গতি ও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি
মাঝমাঠে অভিজ্ঞ কাসেমিরো খেললেও তার গতি আগের মতো নেই। অন্যদিকে লুকাস পাকেতা ভালো শুরু করলেও ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ট্রানজিশনে সমস্যায় পড়তে দেখা গেছে।
ফলে মাঝমাঠের কিছু জায়গা কাজে লাগিয়ে হাইতিও কয়েকবার আক্রমণে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপে জয় সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাইতির বিপক্ষে পাওয়া এই জয় ব্রাজিলকে যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনি সামনে কী কী জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন, সেটাও পরিষ্কার করে দিয়েছে। শিরোপার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আনচেলত্তির দলকে আরও পরিণত ও ধারাবাহিক ফুটবল খেলতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।