ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২১ সালের মার্চে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এ ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৫ জনের পরিবার এখনও ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং দায়ীদের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও। ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার সূত্রপাতের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মোট ১৫ জন নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন আশিক মিয়া, হুসাইন আহমাদ, জুবায়ের, কাউসার উদ্দিন, কাউসার মিয়া, বাদল মিয়া, জহিরুল আলম, মুশাহিদ, ফয়সাল মিয়া, কামাল উদ্দিন, আশিকুল ইসলাম, আল আমিন, হাদিস মিয়া, লিটন মিয়া এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ছাত্র আসাদুল্লাহ রাতিন।
নিহতদের পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা এখনো কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক কষ্টও বহন করছে। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
পাঁচ বছর পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার স্মৃতি স্থানীয় মানুষের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। নিহতদের স্বজনদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একদিন তারা ন্যায়বিচার দেখতে পাবেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।