ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও দ্বিতীয় বিয়ে না করার কারণ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা ‘মা পদক ২০২৬’ গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান এবং একজন আদর্শ মা হিসেবে সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে নিজের জীবনের সংগ্রাম, মাতৃত্ব এবং একাকিত্ব নিয়ে কথা বলেন ববিতা। তিনি জানান, সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ও পূর্ণতা।
তিনি বলেন, একজন নারীর জীবনে পূর্ণতা আসে মাতৃত্বে। সন্তানই একজন মায়ের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৮২ সালে ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৮৯ সালে তাদের সন্তান অনিক ইসলামের জন্ম হয়। তবে ১৯৯৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন বদলে যায় ববিতার।
তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার জীবনে নতুন করে বিয়ের অনেক প্রস্তাব এসেছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনও দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চাপ দিয়েছিল। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি আর বিয়ে করেননি।
আবেগঘন কণ্ঠে ববিতা বলেন, “অনিকের জন্মের পর আমি তাকে নিয়েই বাঁচতে শিখেছি। আমি একজন সিঙ্গেল পেরেন্ট হিসেবে তার মা ও বাবা—দুই ভূমিকাই পালন করেছি।”
তিনি আরও জানান, তার ছেলে অনিক এখন কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছে। সুযোগ পেলে তিনি ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে কানাডায় যান বলেও জানান।
মাতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সন্তানের মধ্যেই তিনি জীবনের আলো খুঁজে পেয়েছেন। কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার শোভা।
সবশেষে ববিতা বলেন, একজন মা হিসেবে তিনি কতটা সফল তা জানেন না, তবে তার পুরো জীবনই সন্তান অনিককে ঘিরে।
অনুষ্ঠানে ববিতা ছাড়াও আরও ১১ জন গুণী ব্যক্তির মায়েদের ‘মা পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ববিতা ২৭৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।