নতুন অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন খাতে কর ও ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
সূত্র জানায়, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
এতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
এছাড়া রপ্তানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের দোকানদার ও মুদি ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিক নির্দিষ্ট হারে প্যাকেজ ভ্যাট চালুর প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে।
সরকার ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করার পরিকল্পনা করছে। আগামী অর্থবছর থেকে অনলাইনে আবেদন করে বিআইএন নেওয়ার সুযোগ চালু হতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকে চলতি হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার চিন্তাও রয়েছে।
অন্যদিকে সিগারেট, জর্দা, গুল, আইসক্রিম, ফলের রস, কোমল পানীয় ও প্রসাধনী সামগ্রীর ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া এলডিসি উত্তরণের শর্ত অনুযায়ী কিছু আমদানি পণ্যের শুল্ক কমানো হলেও ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ওপর নতুন করে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এসব প্রস্তাব আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।