কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি ল্যাব থেকে ভুল রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুল প্রতিবেদনের কারণে প্রায় দুই বছরের এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়, যা তার পরিবারকে চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তিতে ফেলে। একই সময়ে হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ গ্রামের বাসিন্দা সাগর হোসেনের ২৩ মাস বয়সী মেয়ে আনাবিয়া কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়ার আশঙ্কায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালে নেওয়ার আগে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষায় শিশুটির প্লাটিলেট পাওয়া যায় ১ লাখ ৭৯ হাজার। পরে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুনরায় পরীক্ষা করালে সরকারি ল্যাবের প্রতিবেদনে প্লাটিলেট মাত্র ৮৯ হাজার দেখানো হয়।
রিপোর্টে প্লাটিলেটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা বাইরে আরেকটি ল্যাবে পরীক্ষা করালে প্লাটিলেট পাওয়া যায় ১ লাখ ৮৫ হাজার। পরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবার পরীক্ষা করলে প্লাটিলেটের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার আসে। এতে সরকারি ল্যাবের প্রতিবেদনের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে অনুমোদনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার’কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক বা অনুমোদিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের স্বাক্ষর ও সিল ছাড়া পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ভুল প্রতিবেদনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ল্যাবকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে ২৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সরকারি ল্যাবের ভুল প্রতিবেদন সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা ও অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।