ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদকপাচার ও চোরাচালান ঠেকাতে জামালপুর সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবির সদস্যদের বাড়তি টহল দিতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদেরও সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবিকে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, তাদের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নেই। তবে সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন ৭২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় ২৬ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। পুরো সীমান্তজুড়েই নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে বিজিবি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।