বরিশাল নগরীর কাউনিয়া পুরানপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্যের ডাম্পিং স্টেশনের কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব, ধোঁয়া এবং পরিবেশ দূষণের মধ্যে বসবাস করতে করতে অনেকের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার পরিচিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মেয়েদের বিয়ে দিতে গেলেও অনেক পরিবারকে অন্য এলাকায় বাসা ভাড়া নিতে হয়। কারণ ‘ময়লাখোলা’ নাম শুনেই অনেক পক্ষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০০২ সালে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া পুরানপাড়ায় প্রায় ছয় একর জমিতে বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য সেখানে জমা হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এলাকাটি ‘ময়লাখোলা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
বর্তমানে নগরীর প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এই ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হচ্ছে। তবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে উন্মুক্তভাবে ময়লা স্তূপ করে রাখায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘ ২২ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তর বা আধুনিকায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বর্জ্য থেকে বের হওয়া দূষিত তরল আশপাশের খাল হয়ে নদীতে গিয়ে মিশছে। এতে জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় লাখ মানুষের এই নগরীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ টন গৃহস্থালির বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে শতাধিক যানবাহন এবং কয়েকশ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়বে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।