অস্ট্রেলিয়ার Sydney শহরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর একজনের বয়স ১২ বছর, অন্যজনের বয়স মাত্র ৫ বছর বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির ক্যাম্পবেল্টটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে ৪৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত নৃশংস বলে বর্ণনা করেছে পুলিশ। তবে নিহতদের পরিচয় সুরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযুক্তকে তিনটি হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় আদালতে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।
তার আইনজীবী Jawad Hossain সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ হেফাজতে তার মক্কেল চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তবে তার অতীত মানসিক অবস্থা বা পারিবারিক সহিংসতার কোনো ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় থেকেই দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। শিশু দুজনেরই বিকাশজনিত কিছু সমস্যা ছিল। পরিবারের উপার্জনের দায়িত্বে ছিলেন তাদের মা। প্রায় এক দশক আগে পরিবারটি বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়।
New South Wales Police Force-এর অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট Michelle Moroney ঘটনাস্থলকে ভয়াবহ অপরাধস্থল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাসার ভেতর থেকে এমন কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে হামলার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগে কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেননি। পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার পূর্ব অভিযোগও ছিল না।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় বাড়ির ভেতরে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহত দুই শিশুকে প্রায়ই বাইরে খেলাধুলা করতে দেখা যেত। তারা ছিল খুবই প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি।
আরেক নারী প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে ফুল রেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা তো ছোট শিশু ছিল। কীভাবে কেউ এমন করতে পারে?”
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার Chris Minns। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এতে মর্মাহত।
তিনি আরও জানান, আগামী বাজেটে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।