যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে আবারও চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা, বাড়তি শুল্ক এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে মার্কিন বাজারে চীনের রফতানি বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেই সুযোগে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। একই সময়ে চীনের রফতানি নেমে এসেছে ১৭০ কোটি ডলারে।
যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশের রফতানি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে, তবে চীনের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ, সেখানে চীনের পতন ৫০ শতাংশেরও বেশি।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন এবং অতিরিক্ত মজুতের কারণে মার্কিন বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বাড়তি শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। আর সেই জায়গায় বড় সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিশেষ করে কম খরচে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং ডেনিম ও নিটওয়্যার খাতে শক্ত অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পোশাক আমদানিতে ধীরগতি থাকলেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। চীনের রফতানিতে বড় পতনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া ভালো প্রবৃদ্ধি দেখালেও বাংলাদেশ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে সবচেয়ে বড় অংশীদার ভিয়েতনাম। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি প্রায় ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। বাজারের প্রায় ২২ শতাংশ দখলে রয়েছে ভিয়েতনামের। অন্যদিকে বাংলাদেশের দখলে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।
অন্যদিকে ভারতের রফতানিতে বড় পতন দেখা গেছে। একই সময়ে কম্বোডিয়া উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা চলছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ক্রেতারা কম দামে পণ্য কিনতে চাইছেন। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কম মুনাফায় অর্ডার নিতে হচ্ছে।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা, উচ্চমূল্যের পণ্যে বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।