উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় কমে গেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এতে করে মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
রাজধানীর খিলক্ষেতে কর্মরত এক বেসরকারি স্কুলশিক্ষক মো. আতিক ইসলাম বলেন, ২২ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। খরচ কমাতে দুই দিন পরপর বাজার করতে হচ্ছে এবং শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯.৫৭ শতাংশ, যা আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে।
বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে এবং অনেক পণ্যের বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ছোট প্যাকেট বা সীমিত পরিমাণে কেনাকাটা করছেন।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, তেলের দাম বাড়লেও বিক্রি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে পাম তেলের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। উত্তরার বাজারে টিসিবির পণ্যের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, কারণ তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি সীমিত আয়ের মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
বাজার পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি মুরগি, ডিম, মাছ ও মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। চাল, ডাল ও নিত্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল না থাকায় সাধারণ মানুষ ব্যয় সংকোচন করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছে। তাই বাজার তদারকি ও নীতি সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এখনো কোনো মতামত নেই।