ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিল না আর্জেন্টিনা। প্রথম ১০ মিনিটে মাঝমাঠে একাধিকবার বল হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৫ মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর। মারওয়ান আত্তিয়ার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন ইয়াসের ইব্রাহিম।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯ মিনিটে পেনাল্টি পেলেও অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের।
এরপর একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। ২৮ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড এবং ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের শটও দারুণভাবে প্রতিহত করেন শোবের। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্কালোনির শিষ্যরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। ৬৭ মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোস্তাফা জিকো। তখন ম্যাচে মিশরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।
তবে ৭৯ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন লিওনেল মেসি। তার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো।
এর মাত্র চার মিনিট পর নিজেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি। সমতায় ফেরার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা।
যোগ করা সময়ে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে নাটকীয় এই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।