আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শিরোপা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি এবার শুধু প্রথম একাদশ নয়, বরং একটি বিশেষ ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছেন।
অনুশীলনে স্কালোনি ৩-৫-২ ধরনের একটি ভ্যারিয়েশন পরীক্ষা করেছেন, যা মূলত পরিস্থিতি বুঝে ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তে ব্যবহার করার জন্য রাখা হয়েছে। শুরু থেকে নয়, বরং প্রতিপক্ষের চাপ বা ম্যাচের মোড় ঘুরানোর প্রয়োজনে এই ছক ব্যবহার করতে পারেন আর্জেন্টাইন কোচ।
এই ফর্মেশনে রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে একসঙ্গে। তিনজনই বল পায়ে দক্ষ এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সক্ষমতা রাখেন, যা এই ছকের অন্যতম শক্তি।
উইংব্যাক হিসেবে অনুশীলনে দেখা গেছে জুলিয়ানো সিমিওনে ও নিকোলাস গনসালেজকে। দুজনই গতিময় এবং টাচলাইনে খেলে দ্রুত আক্রমণে উঠতে সক্ষম, যা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মিডফিল্ডে থাকতে পারেন অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পল। এই কাঠামোতে থিয়াগো আলমাদা একাদশের বাইরে থাকতে পারেন, যা ট্যাকটিক্যাল ব্যালান্স ধরে রাখার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্কালোনির একটি ‘ম্যাচ চেঞ্জিং প্ল্যান’, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে যদি আর্জেন্টিনা প্রেসিংয়ের চাপের মুখে পড়ে, তখন এই ফর্মেশন কার্যকর হতে পারে।
এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও একই ধরনের ছক ব্যবহার করেছিল আর্জেন্টিনা, যা সফল হয়েছিল। ফলে এবারও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন স্কালোনি।
সব মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার এই ‘গোপন অস্ত্র’ কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।