হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের কার্গো জট নিরসনে বিমানবন্দরের বাইরে আধুনিক ও নিরাপদ কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এটি হতে পারে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, বিমানবন্দর মূলত পণ্য পরিবহনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। এটি কোনো স্থায়ী গুদাম বা সংরক্ষণকেন্দ্র নয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে আটকে থাকায় চাপ বাড়ছে এবং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন। বর্তমানে ছুটির দিনে সীমিত কার্যক্রমের কারণে জমে থাকা কার্গো দ্রুত খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় অন্তত আগামী এক দশকের পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ, সাধারণ, দ্রুত পরিবহনযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণযোগ্য পণ্যের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে প্রবেশ করছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাসও হচ্ছে। তবে পূর্বে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্গো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ সুবিধা তৈরি করা গেলে বিমানবন্দরের ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও সমস্যা সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।