দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই গত প্রায় দুই বছরে বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে প্রবাসী কর্মী ও পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর রুটে যাওয়া-আসার টিকিট ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও বর্তমানে একই রুটে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
শুধু মালয়েশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যেও বিমান ভাড়া আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি জনপ্রিয় রুটে যেখানে আগে যাওয়া-আসার খরচ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন অনেক যাত্রীকে ৮০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ রুটেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা থেকে রাজশাহী, সৈয়দপুর কিংবা কক্সবাজার রুটে আগের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে ভ্রমণের তারিখ ঘনিয়ে এলে টিকিটের দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা, ছুটির সময়ের চাপ এবং আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে টিকিটের মূল্য বাড়ছে। সামনে ওমরাহ মৌসুম শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
বিমান খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, যন্ত্রাংশ আমদানির খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে।
এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া অনেক সময় বিকল্প থাকে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন রুটে আসনের চাহিদা ও সরবরাহের ওপরও টিকিটের মূল্য নির্ভর করে।
এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, জেট ফুয়েলের ওপর কর ও বিভিন্ন চার্জ পুনর্বিবেচনা করা হলে যাত্রীদের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত হলে ভাড়া স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পরিচালন ব্যয় স্বাভাবিক না হলে অদূর ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।