মাত্র এক থেকে তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত পর্ব, আর প্রতিটি পর্বের শেষে এমন চমক যা দর্শককে পরবর্তী পর্ব দেখতে বাধ্য করে এভাবেই চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন বিনোদনধারা ‘মাইক্রো-ড্রামা’। স্মার্টফোনভিত্তিক এই কনটেন্ট ফরম্যাট এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মাইক্রো-ড্রামা নির্মাণের প্রায় প্রতিটি ধাপেই জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে। গল্প রচনা, স্টোরিবোর্ড তৈরি, ভিডিও প্রোডাকশন, কণ্ঠস্বর তৈরি, সম্পাদনা এবং পোস্ট-প্রোডাকশন সব ক্ষেত্রেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে একটি মাইক্রো-ড্রামা তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লাগত, এখন তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চীনে প্রতিদিন গড়ে ৪৭০টি এআই-নির্মিত মাইক্রো-ড্রামা প্রকাশিত হয়েছে। একই বছরের মার্চ মাসে বিভিন্ন স্ট্রিমিং ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে কয়েক হাজার নতুন এআই-নির্ভর মাইক্রো-ড্রামা যুক্ত হয়েছে। এআইয়ের কারণে শুধু উৎপাদনের গতি বাড়েনি, গল্প বলার ধরনেও এসেছে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৬ সালে চীনের মাইক্রো-ড্রামা শিল্পের বাজারমূল্য ১২ হাজার কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি এই খাতের আয় দেশটির প্রচলিত সিনেমা হলভিত্তিক বক্স অফিসের আয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়ছে মাইক্রো-ড্রামার জনপ্রিয়তা। বিভিন্ন ভাষায় সাবটাইটেল ও ডাবিংয়ের সুবিধা এবং স্থানীয় দর্শকদের উপযোগী গল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই নতুন বিনোদন মাধ্যম।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।