ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি। গ্ল্যামার ও অভিনয় দক্ষতার অনন্য সমন্বয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়ে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এই গুণী অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন সহশিল্পী ও ভক্তরা।
প্রায় চার দশক আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)-এর ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন দিতি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী হিসেবে। শুধু দর্শক নয়, সহশিল্পীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক রাজ্জাক জীবদ্দশায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “দিতি আমাকে বাবা বলে ডাকত। তার স্বামী সোহেল চৌধুরী ও আমার ছেলে বাপ্পা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছে। সে আমাদের পরিবারেরই একজন ছিল এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।”
চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন দিতি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান লামিয়া ও দীপ্ত। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করলেও সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে বড় পর্দায় এই জুটির রসায়ন দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
ইলিয়াস কাঞ্চন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের প্রথম ছবি ছিল ‘ভাই-বন্ধু’। আমরা প্রায় ৩০টির মতো সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছি। দিতি অত্যন্ত প্রতিভাবান অভিনেত্রী ছিল এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছে।”
১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জন্মগ্রহণ করেন দিতি। ১৯৮৪ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখলেও তার প্রথম অভিনীত ছবি ‘ডাক দিয়ে যাই’ মুক্তি পায়নি। পরবর্তীতে ‘আমিই ওস্তাদ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
দীর্ঘ ৩১ বছরের ক্যারিয়ারে দিতি শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। নাটকে অভিনয়, পরিচালনা, রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা এবং গানেও নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। তার একক গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৬ সালের ২০ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই অভিনেত্রী। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের দত্তরপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।
গ্ল্যামার, অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব সব মিলিয়ে পারভীন সুলতানা দিতি বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নাম, যিনি আজও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই।