স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু ও কিশোরদের দৃষ্টিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু বর্তমানে চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে, যার মধ্যে স্বল্পদৃষ্টি বা মায়োপিয়ার হার সবচেয়ে বেশি।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মায়োপিয়া এমন একটি সমস্যা যেখানে কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখা গেলেও দূরের বস্তু ঝাপসা দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে।
শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, খোলা পরিবেশে কম সময় কাটানো এবং শারীরিক খেলাধুলার অভাব এ সমস্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক শিশুর মধ্যেই মোবাইল নির্ভরতা লক্ষ্য করা গেছে। কেউ ভিডিও দেখছে, কেউ গেম খেলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে শিশুদের চোখের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ ও নিরাপদ বিনোদনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক শিশু অবসর সময়ের বেশিরভাগ অংশ মোবাইল ফোনে কাটায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে খাওয়ানো বা ব্যস্ত রাখার জন্যও মোবাইল ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি হাসপাতালভিত্তিক একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু ও কিশোর কোনো না কোনো দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। চিকিৎসকদের ধারণা, এর একটি বড় অংশ অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিন বাইরে খেলাধুলা বা প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার মায়োপিয়া দেখা দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চশমা ছাড়া স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া কঠিন। তাই সমস্যা বাড়ার আগেই সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে এবং খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।