স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রোববার ভোর পর্যন্ত চলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচন ছিল প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বড় ধরনের জাতীয় ভোট। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি অধিকাংশ আসনে সফল হলেও ভোট পরিচালনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের পর ব্যালট পেপারের সংকট নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান নো তাই আক পদত্যাগ করেন। কমিশনের তথ্যমতে, রাজধানী সিউলসহ দেশের অন্তত ৫০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের ঘাটতি দেখা দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ সিউলের একটি ক্রীড়া স্টেডিয়ামে জড়ো হন, যেখানে ভোট গণনার কার্যক্রম চলছিল। রাত গভীর হলেও বহু মানুষ সেখানে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। বিক্ষোভকারীদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ ভোটার।
প্রতিবাদকারীরা জাতীয় পতাকা বহন করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, ব্যালট সংকটের কারণে কিছু ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
একজন বিক্ষোভকারী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তাই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ব্যালট অব্যবহৃত থাকায় এবার তুলনামূলক কম ব্যালট মুদ্রণ করা হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তই সংকটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক নাগরিক। তাদের দাবি, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কেউ কেউ পুনর্নির্বাচনেরও দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যালট সংকটের ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।