বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাস আসায় বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেশ কমেছে। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের বাজার চড়াও হতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪,৩১৩ দশমিক ১১ ডলারে। এর আগে গত শুক্রবারও একদিনে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা গত ২৪ মার্চের পর সবচেয়ে কম দামের রেকর্ড। অপরদিকে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহ করা হবে এমন মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ওয়ান্ডার সিনিয়র অ্যানালিস্ট কেলভিন ওং এই পরিস্থিতি নিয়ে জানান, আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে, এমন ধারণা থেকেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা গত সেশনেই দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল, যা আজ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন করে কোনো হামলা না করার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ইসরাইল আজ সোমবার পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। সাধারণ সময়ে মূল্যস্ফীতির বিপরীতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও, সুদের হার উচ্চ থাকলে স্বর্ণের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ হার বৃদ্ধির এই সম্ভাবনা এখন প্রায় ৭২ শতাংশ নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকান অর্থনীতিবিদ বেথ হাম্যাক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থানের তথ্য অনুযায়ী মার্কিন শ্রমবাজার বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খুব দ্রুতই সুদের হার বাড়াতে হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মন্দাভাব দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রৌপ্যের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৭৬৭ দশমিক ১৫ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের বাজার মূল্য প্রায় আগের মতোই অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ১,২২৫ দশমিক ৬৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।