ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযান ও জনবল সংকটের কারণে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গুরুতর চাপে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সেনাপ্রধান মন্ত্রীদের সামনে পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সেনা নিয়োগ, রিজার্ভ সদস্যদের দায়িত্ব এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দ্রুত আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
জামিরের মতে, বিদ্যমান জনবল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠছে। রিজার্ভ বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এর আগেও চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সেনাপ্রধান সৈন্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে জনবল ঘাটতি যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরাইলি সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটির সেনাবাহিনীতে প্রায় ১২ হাজার সদস্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েন, রিজার্ভ সদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ এবং নতুন সেনা নিয়োগে জটিলতা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
এদিকে সামরিক সেবায় হারেদি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়েও দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। গত বছর ইসরাইলের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেন যে হারেদি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সামরিক সেবা অব্যাহতির পক্ষে কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি নেই।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার হারেদি তরুণ সামরিক সেবার উপযুক্ত হলেও তাদের অধিকাংশ এখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনবল সংকট ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।