দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জুন মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। পাশাপাশি মাসজুড়ে দুই থেকে তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে তাপপ্রবাহ চলছে তা শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর শনিবার থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা আবহাওয়া পুরোপুরি দূর হবে না।
গত কয়েক দিনে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর সঙ্গে চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ মোট ৪৮টি জেলা তাপপ্রবাহের আওতায় এসেছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি বছরে এত বিস্তৃত এলাকায় একসঙ্গে তাপপ্রবাহের ঘটনা খুব কমই দেখা গেছে। তাদের মতে, জুন মাসজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে তাপপ্রবাহের বিস্তার কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মাসের সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। কিন্তু এবার সেটি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে বৃষ্টিপাত কম থাকায় গরমের অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদের মতে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করতে পারে। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়বে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা কমে আসবে।
এদিকে আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার পর বৃষ্টিপাত বাড়বে এবং গরমের তীব্রতা কিছুটা কমবে। তবে পুরো জুন মাসজুড়েই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া রোদে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।