বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার একদিনের মধ্যেই নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বার্তা এসেছে। আবাসিক খাতের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এই শ্রেণির গ্রাহকরা আগের হারেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের আবেদন করেছে।
জানা গেছে, বিইআরসি বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অনুমোদন মিললে জুন মাস থেকেই এসব গ্রাহক পুরোনো হার অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন।
এর আগে বুধবার পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। পাশাপাশি সঞ্চালন চার্জও বাড়ানো হয়েছিল।
ঘোষিত নতুন দরে লাইফলাইন শ্রেণির গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ টাকা ৩২ পয়সা। আগে যা ছিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলো এই শ্রেণির আওতায় পড়ে।
একইভাবে মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রথম ধাপের গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট মূল্য ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের তুলনায় ৯২ পয়সা বেশি।
তবে নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট মূল্য আগের ৪ টাকা ৬৩ পয়সাই থাকবে। আর প্রথম ধাপের গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা হারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির আওতায় রয়েছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধি বহাল থাকলে বিপুলসংখ্যক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার বাড়তি আর্থিক চাপে পড়ত।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন বিইআরসির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।