মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর আস্থা ও সমর্থনের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন এবং সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ সময় তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারী বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদেরও ধন্যবাদ জানান।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের ভূয়সী প্রশংসা করে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা, মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি এবং আর্থিক চাপ জাতিসংঘের কার্যক্রমকে কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
এসব সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সংলাপ, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের পথে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণে নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়ন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ সংকট মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে গৃহীত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দিয়েই একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতিসংঘ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতায় ৮১তম অধিবেশন বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে নতুন অগ্রগতি বয়ে আনবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।