বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি ভারতে অবস্থান করতে চাইলে আগের তুলনায় আরও আগে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস ২০২৫ সংশোধন করে নতুন এই বিধান কার্যকর করেছে।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি ১৮০ দিন বা তার কম মেয়াদের ভিসা নিয়ে ভারতে অবস্থান করবেন, তাদের ভিসার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগে ১৮০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের সুযোগ ছিল।
গত ১ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আইনের ১২ নম্বর বিধি সংশোধনের মাধ্যমে আগের সময়সীমা বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে বিদেশিদের।
ভারত সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়বে।
শুধু স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারীরাই নয়, যাদের ভিসার মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হলেও একটানা অবস্থানের অনুমতি ১৮০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তারা যদি একটানা বা এক ক্যালেন্ডার বছরে ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চান, তাহলে আগে থেকেই নিবন্ধন করতে হবে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থানের অনুমতি এখন শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ফলে পূর্বের তুলনায় ওভারস্টে অনুমোদনের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।
সংশোধিত বিধিতে বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে বাবা-মায়ের একজন বা উভয়েই বিদেশি হলে সন্তানের জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক ছিল।
তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাবা বা মায়ের একজন ভারতীয় নাগরিক হলে এবং সন্তানকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই রাখা হলে জন্মের পর আলাদা করে তথ্য জানাতে হবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে ওই সন্তান অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করতে হবে।
এদিকে হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং আবাসন সুবিধাসম্পন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর রিপোর্টিং ব্যবস্থাতেও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যদিও সরকার বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিদেশি নাগরিকদের তদারকি ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং কার্যকর করতেই এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।