রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে ঘটনার ভয়াবহ ও মর্মান্তিক চিত্র। ভুক্তভোগীর স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে ১৯ মে সকালের সেই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে রামিসার বাবা-মা, বড় বোনসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সাক্ষ্যে রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার কিছু সময় পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে এসে তিনি দেখতে পান ভবনের সামনে লোকজনের ভিড় এবং পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার ডাকাডাকি চলছে।
তিনি আদালতকে জানান, অনেক চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করা হয়। ভেতরে ঢুকেই বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান তারা।
অন্যদিকে রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকার সময় মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে তিনি আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের একটি জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়।
তিনি আদালতে বলেন, বারবার ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা স্বপ্না আক্তারকে দরজা খুলতে অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
রামিসার চাচি আদালতে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। সে সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছিল।
একই মামলায় সাক্ষ্য দেন রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে বাসায় এসে রক্তাক্ত পরিবেশ দেখতে পান এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই আসামিকেও শনাক্ত করেন।
প্রতিবেশী মনির হোসেন আদালতে জানান, ঘটনার সময় তিনি চিৎকার শুনে নিচে নামেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান।
আরেক প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন বলেন, ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশের পর বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখতে পান। এ সময় স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ এক সাক্ষী আবু সামা আদালতে বলেন, ঘটনার সময় তিনি পাশের বাসার জানালা দিয়ে এক ব্যক্তিকে নিচে নামতে দেখেছিলেন। প্রথমে তাকে চোর মনে হলেও পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে ওই ব্যক্তিকে সোহেল রানা হিসেবে শনাক্ত করেন বলে আদালতকে জানান।
এ ছাড়া মনিরুজ্জামান শাহীন নামে আরেক সাক্ষী আদালতে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি ধারালো ছুরি দেখতে পান। পরে পুলিশ সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু বলেন, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যগুলো মামলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্যে ঘটনার ধারাবাহিকতা, আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয় এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়েছে।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে এগোচ্ছে বিচারপ্রক্রিয়া।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।