Porbo24 | Bangladesh News Portal Breaking News, National & International Updates

ঢাকা
...
আপডেট: যাচাই হচ্ছে...
ads
যুদ্ধ পরিস্থিতি লাইভ
LIVE আপডেট
কুমিল্লায় আলোচনায় ৯ মণ ওজনের ‘কালাবাহাদুর’খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীসন্ধ্যার মধ্যে দুই জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতায় উদ্বেগ, কড়া বার্তা ইউনিসেফেরকোরবানির গরু কাটতে বিমানে ঢাকায় আসছেন সৈয়দপুরের কসাইরাকুমিল্লায় আলোচনায় ৯ মণ ওজনের ‘কালাবাহাদুর’খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনে ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীসন্ধ্যার মধ্যে দুই জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতায় উদ্বেগ, কড়া বার্তা ইউনিসেফেরকোরবানির গরু কাটতে বিমানে ঢাকায় আসছেন সৈয়দপুরের কসাইরা

বিস্তারিত

MD Ekram

Dhaka, Bangladesh

প্রকাশিত : 2 June, 2026,
3:22 pm

লিংক কপি করা হয়েছে!

১৮ বছর ধরে বন্ধ মৎস্য বাজার, এখন সেখানে মাদকের আড্ডা

১৮ বছর ধরে বন্ধ মৎস্য বাজার, এখন সেখানে মাদকের আড্ডা

সংগৃহীত ছবি

একসময় জেলে, শ্রমিক ও মাছ ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর ছিল বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্র। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন এটি পরিণত হয়েছে প্রায় পরিত্যক্ত স্থাপনায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা ও প্রভাবশালী মহলের প্রভাবের কারণে সম্ভাবনাময় এই সরকারি স্থাপনাটি অচল হয়ে আছে।

নগরীর বান্দরোড এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) অধীন কেন্দ্রটি বর্তমানে ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রের প্রবেশমুখে সাইনবোর্ড থাকলেও ভেতরে নেই কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকার পর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এটি পুনরায় চালু করা হয়। তবে মাত্র দুই বছর কার্যক্রম চলার পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটি।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের দিকে অবতরণ কেন্দ্রের একটি অংশ দুটি টাইলস কোম্পানির গুদাম হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। সম্প্রতি সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে কোনো ভাড়াটিয়া নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কেন্দ্রটির বিভিন্ন অবকাঠামো ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। পাশাপাশি কিছু অংশ দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

কেন্দ্রটির সাবেক শ্রমিক সালাম বলেন, অবতরণ কেন্দ্র চালু থাকাকালে নিয়মিত কাজ ছিল। এখন অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। কেন্দ্রটি আবার চালু হলে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান বলেন, কেন্দ্রটি সচল হলে পোর্ট রোড এলাকার যানজট অনেকটাই কমে আসবে। এখানে ট্রাক পার্কিংয়ের সুযোগ রয়েছে। এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন এটি চালু করা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

ট্রাকচালক আনিস জানান, মাঝে মধ্যে এখানে গাড়ি পার্ক করা হয়। তবে নিরাপত্তার অভাবে চুরির ঘটনা ঘটে। অনেক চালকের ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় তারা কেন্দ্রটিতে ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী নন। বর্তমানে তারা পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারি কেন্দ্রটিতে ব্যাংকিং সুবিধা নেই। পর্যাপ্ত বরফকল, মাছ ওঠানামার ঘাট এবং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গারও সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান ছাড়া ব্যবসায়ীদের সেখানে নেওয়া কঠিন।

মৎস্য লাইনম্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির বলেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে কেন্দ্রটি সচল করা সম্ভব নয়। এজন্য আগে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদী। বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার জি এম মাসুদ শিকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রটি আবারও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

পাঠকদের মতামত 0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।

আপনার মূল্যবান মতামত লিখুন

সর্বশেষ খবর

লোড হচ্ছে...
PORBO24

অপেক্ষা করুন...