খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ স্টোরে আগুন লাগার ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি সচল হয়নি অপারেশন কার্যক্রম। ফলে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগুনে অপারেশন থিয়েটারসংলগ্ন অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি হওয়ায় জরুরি ও চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে আসা এছার জোমাদ্দার প্রায় দেড় মাস আগে মস্তিষ্কের টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকরা এখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একই ধরনের সংকটে পড়েছেন রামপালের সুলতানা আক্তার। স্নায়ুর অস্ত্রোপচারের জন্য তার ২০ মে তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দিনই আগুনের ঘটনায় সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এরপর কবে অপারেশন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাননি তিনি।
সোমবার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বহু রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী এলেও অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অথবা পরে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর হাসপাতালে এসেও চিকিৎসা পাননি। অনিশ্চয়তার কারণে রোগীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের চিকিৎসকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অনেক রোগীর অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হওয়ায় জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করে স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. দিলীপ কুণ্ডু বলেন, অপারেশন থিয়েটারের মূল কাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। প্রধান সমস্যা অক্সিজেন সরবরাহ লাইনে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে একটি অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলেও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট বন্ধ থাকায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শেষ হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ হলে অপারেশন থিয়েটার আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।