ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি রিভিউ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (১ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সিনেমাটিকে শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মানবজীবনের বহুমাত্রিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মূলত অসংখ্য মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা এবং জীবনের চলমান সংগ্রামের গল্পকে একসূত্রে গেঁথেছে। তার মতে, সিনেমাটি দেখার পর বনলতা এক্সপ্রেস আর কেবল একটি ট্রেন বলে মনে হয় না, বরং এটি হয়ে ওঠে মানুষের অনুভূতি আর বেদনার এক চলমান প্রতিচ্ছবি।
রিভিউতে তিনি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বিশেষ করে ডাক্তার আশাব, গণিতের অধ্যাপক রশিদ উদ্দিন, মন্ত্রী আবুল খায়ের, আজিজ ও রুবির মতো চরিত্রগুলোর মাধ্যমে জীবনের নানা বাস্তবতা ও দর্শনের ব্যাখ্যা দেন।
এক পর্যায়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জীবনের সব হিসাব কি সত্যিই মানুষের হাতে থাকে? নাকি কোনো অদৃশ্য শক্তি সেই হিসাব নির্ধারণ করে দেয়? তার মতে, জন্ম ও মৃত্যুর মাঝখানের সময়টুকুই মানুষের প্রকৃত জীবন, যেখানে আনন্দ, বেদনা, সংগ্রাম ও স্বপ্ন একসঙ্গে পথচলা করে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবীর মতোই বনলতা এক্সপ্রেসের এক পাশে রয়েছে হারানোর বেদনা, অন্য পাশে নতুন জীবনের সূচনা। কোথাও ক্ষমতার দম্ভ, কোথাও মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এসব বৈপরীত্যই মানবজীবনের প্রকৃত সৌন্দর্যকে তুলে ধরে।
জীবনের অনিবার্য রূপান্তরের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, মানুষ বারবার পড়ে যায়, কষ্ট পায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। এই এগিয়ে চলাই জীবনের ধর্ম। আর সেই কারণেই বনলতা এক্সপ্রেসকে থামানো যায় না, যেমন থামানো যায় না জীবনের গতিকেও।
উল্লেখ্য, বনলতা এক্সপ্রেস নির্মাণ করেছেন তানিম নূর। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর উপন্যাস কিছুক্ষণ অবলম্বনে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি সিনেমাটিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যেই হাসনাত আবদুল্লাহর এই রিভিউ নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে চলচ্চিত্রটিকে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।