রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তিনি এ দাবি জানান।
এদিন সকালেই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো।
এর আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে তাকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশী একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান।
সন্দেহের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে একটি কক্ষে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং একজনকে হেফাজতে নেয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলাটির দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।