গাজাগামী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার আটককৃত সমাজকর্মীদের নিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আটক কর্মীদের হাত বেঁধে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। এরপর থেকেই মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ফ্লোটিলার কর্মীদের অপমানজনক অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে। এ ঘটনাকে অনেক দেশ মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ঘটনার জেরে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও বেলজিয়ামসহ কয়েকটি দেশ নিজ নিজ দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বা কূটনীতিকদের তলব করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এ ঘটনাকে ‘অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যৌথ বিবৃতিতে আটক কর্মীদের সঙ্গে আচরণকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ নোয়েল বারোট বলেছেন, ঘটনাটির ব্যাখ্যা চাইতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডও।
এছাড়া স্পেন, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, কাতার, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশ ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই ফ্লোটিলা ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বব্যাপী জনমত আরও কঠোর হয়ে উঠছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।