রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ রেখেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খাটের নিচে পাওয়া যায় মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা।
তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে থাকলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে সেখানে ভাড়া ওঠেন। ঘটনার দিন সকালে মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। এরপর দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ড চলছিল। তাদের ধারণা, জাকিরকে পালানোর সুযোগ দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে দরজা খুলতে দেরি করেন স্বপ্না। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান জাকির।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে জাকিরকে আটক করা হয়। বিকাশে পাঠানো টাকা তুলতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় আটক করা হয়েছে তার স্ত্রীকেও।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলতেই মরদেহ খণ্ডবিখণ্ডের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রামিসার মা দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারায় পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি অভিযুক্তরা।
নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই বোনের মধ্যে সে ছিল ছোট। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।