রাজধানীর মিরপুরে ১০ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী মোছা. মাইমুনার মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীকে আটক করে।
নিহত মাইমুনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কালিসীমা গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে। পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন আইটি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবরার ফাইয়াজ ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট মেহনাজ অনন্যা। তারা মিরপুর-২ এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় আড়াই বছর ধরে ওই বাসাতেই গৃহকর্মীর কাজ করত মাইমুনা।
স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নিয়মিত মারধর ও নির্যাতন করা হতো। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি তাকে। মাইমুনার মা বিউটি আক্তার বলেন, মেয়েকে কাজ দেওয়ার পর বহুবার দেখতে চাইলেও তারা সুযোগ দেননি। বাসার ঠিকানাও গোপন রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তার মেয়ের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে আপসের চেষ্টা হয়েছিল। তবে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি আশপাশের লোকজনের নজরে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় হাসপাতালেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উত্তরা পশ্চিম থানার এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি নির্যাতনের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। আটক দুজনকে মিরপুর মডেল থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।