পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সারাদেশে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়ন ও সংকট মোকাবিলায় গঠিত টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য সরকারি অর্থায়নে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব লবণ দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিতরণ করা হবে।
এছাড়া কুরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে মাংস শ্রমিক ও মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষতা বাড়লে চামড়ার মানও উন্নত হবে।
গত বছর ৯ হাজারের বেশি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন লবণ বিতরণের মাধ্যমে ১৩ লাখের বেশি চামড়া সংরক্ষণ সম্ভব হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ এবং ছাগল-ভেড়া প্রায় ৬৬ লাখ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কুরবানির চাহিদা এক কোটির বেশি হতে পারে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে চামড়া সংরক্ষণে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টাস্কফোর্স জানিয়েছে, স্থানীয় ডিলার ও মিল মালিকদের তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোথাও লবণের সংকট তৈরি না হয়।
অন্যদিকে চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে Bangladesh Bank। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পুনঃতফসিল বা খেলাপি ঋণ থাকা ব্যবসায়ীরাও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মূলধনী ঋণ নিতে পারবেন।
এছাড়া ব্যাংকগুলোকে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে বলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কমানো যাবে না।
চামড়া শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে BSCIC Leather Industrial City এলাকায় ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিইটিপিতে আলাদা এক্সপ্রেস ফিডার লাইন চালু রাখা, জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালনা এবং সাভার গ্রিড থেকে বিশেষ লোড বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।