আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় দেশের স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ ৪৪৩টি সরকারি গাড়ি প্রায় দুই বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। এর প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের জরুরি সেবা, টিকা কার্যক্রম, রোগী পরিবহন এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য তদারকিতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অর্থায়ন কাঠামো অপারেশন প্ল্যান বা ওপি বাতিল হওয়ার পর থেকেই সংকট তীব্র আকার নেয়। চালকদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়, বন্ধ হয় জ্বালানি সরবরাহও। ফলে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শত শত গাড়ি এখন গ্যারেজে পড়ে আছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু যানবাহন নয়, ওপি বাতিলের প্রভাব পড়েছে রোগ নির্ণয় কার্যক্রমেও। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার, ফেনী, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়ি সচল না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন, ওষুধ ও টিকা সরবরাহ এবং জরুরি রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও অ্যাম্বুলেন্স চালাতে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অনেক গাড়ির ইঞ্জিন ও ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু গাড়ি সীমিতভাবে ভাড়ায় চালক এনে চালানো হলেও বেশিরভাগই অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব গাড়ির চালক ছিলেন ৪৯৫ জন। গত ২২ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। শুরুতে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে পরিস্থিতি সামাল দিলেও এখন অধিকাংশ চালক চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে রিএজেন্ট সংকটে অনেক হাসপাতালে হরমোন টেস্ট, ডেঙ্গু পরীক্ষা, পিসিআর, এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাঠপর্যায়ে তদারকি কমে যাওয়ায় হাম, যক্ষা ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, কোভিডের সময় এসব গাড়ি টিকাদান ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বড় ভূমিকা রেখেছিল। এখন অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ থাকায় কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, সংকট সমাধানে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হলে চালকদের বেতন, জ্বালানি সরবরাহ এবং অন্যান্য কার্যক্রম আবার সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।