পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সাগরে মাছ ধরায় সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ২৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বরাদ্দের চাল হাতে পাননি লক্ষ্মীপুরের হাজারো জেলে। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে অনেক পরিবার এখন চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় সংসার চালাতে ধার-দেনা ও দাদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বাজারে বাকিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদ সামনে থাকায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে তাদের।
কমলনগরের জেলে আবু সাঈদ বলেন, সাগরে যেতে না পারায় আয় পুরোপুরি বন্ধ। ছোট ছোট সন্তানদের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই চাল পাওয়া যেত, এবার এখনো কোনো খবর নেই।
জহির উদ্দিন নামে আরেক জেলে বলেন, ধার করে কোনোভাবে সংসার চলছে। দোকানদাররাও এখন আর বাকিতে দিতে চাইছেন না। ঈদের আগে সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে বড় বিপদে পড়তে হবে।
হারুন মাঝি বলেন, তালিকায় নাম ও জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো সহায়তা মেলেনি। প্রতিদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে।
জেলেদের অভিযোগ, টানা কয়েক মাস ধরেই নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘাটে নৌকা বেঁধে শুধু পাহারা দিচ্ছেন তারা। অনেকের ঘরে খাবার পর্যন্ত নেই।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা ২০ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে রয়েছে রামগতি উপজেলায়। সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞাকালে প্রত্যেক জেলেকে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো সেই সহায়তা বিতরণ শুরু হয়নি।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলেদের জন্য ১ হাজার ১২০ টন খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ রয়েছে। কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিতরণে দেরি হয়েছে। তবে ঈদের আগেই সব নিবন্ধিত জেলের কাছে চাল পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশা করছি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।